ছোট ছোট সঞ্চয়

“ বিন্দু বিন্দু মিলে হয় মহাসিন্ধু ”, এই কথাটা একদম কিন্তু ফেলে দেওয়া যায় না। 

একটা উদাহরন দিয়ে বলি, আমার সঞ্চয় করার অভ্যাস প্রথম মা আমাকে শিখিয়ে দেন। ১৯৮০ সালের কথা মা তথন ঢাকা ভাসির্টি পড়তেন কার্জন হল থেকে ফেরার সময় শিশু একাডেমীর গেইট থেকে গাছের চারা কিনতেন, মাটির জিনিষ কিনতেন। মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে প্রায়ই শিশু একাডেমী, বইমেলায় নিয়ে যেতেন। মা আমাকে নিয়ে প্রতিদিন বিকালে আমাদের দোতালার বাড়ীর বিশালছাদে চারা গাছ বুনতেন। পানি দিতেন। যখন ফুল ধরত দারুন আনন্দ হত। আবেগে চোখে পানি চলে আসত। তারপর মা শেখালেন কি করে নিজের অল্প আয় থেকে সঞ্চয় করতে হয়। তখন চার কি পাঁচ বছর বয়স হবে। সবে স্কুলে যাওয়া শুরু করে নার্সারীতে পড়তাম। মা শিশু একাডেমীর আঙ্গিনা থেকে মাটির ব্যাংক কিনে আনলেন। আমাকে বললেন, তোর নিজের মতন যা কিছু কিনতে ইচ্ছে করবে তখন তুই সে জিনিষটা কেনার জন্যে যখন হাতে পয়সা পাবি কিংবা যে পয়সা জমা থেকে যাবে সেটি এখানে জমাবি। আমার কথাটা মনে ধরে গেল, কিন্তু ঝামেলা বাঁধল কি কিনব। কি কিনব ও টুকুন বয়সে ঠিক করতে পারি নি। আমার কি দরকার সেটা বোঝার মতন ক্ষমতা ছিল না তাই কত টাকা জমাবো সেই পরিকল্পনা না করে ২৫ পয়সা আর ৫০ পয়সা করে জমানো শুরু করে দিলাম। এই হল, সঞ্চয় অভ্যাস হওয়ার ছোটবেলার গল্প। 

তারপর একসময় টাকা জমানোটা নেশায় পরিণত হল। প্রতি মাসে বাজেট ঠিক করতাম। আগামী মাসের কি কিনব সেটি আগের মাসে পরিকল্পনা করে ফেলতাম। আমার টাকার উৎস ছিল বাবার কাছে থেকে পাওয়া টিফিন খরচ, যাতায়াত খরচ আর নিজের কিছু কম্পিউটারের কাজ করে আয় । আমার বাজেট পরিকল্পনাটা ছিল খুব মজার ধর আমি একটা জিনিষ পছন্দ করেছি সেটির দাম ১,৫০০ টাকা তারমানে আমাকে ১,৫০০ টাকা সঞ্চয় করতে হবে। সঞ্চয় কিভাবে হবে প্রতিদিন যা আয় করি সেটি থেকে খরচ বাদ দিয়ে একটা অবশিষ্ট অংশ জমা রেখে এই ১,৫০০ টাকা সঞ্চয় করতে হবে। তারমানে প্রতিদিন হিসেবে ৫০ টাকা (১৫০০টাকা/৩০দিন) আমাকে বাঁচাতে হবে। যদি বেশী খরচ হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রে অন্য কোন দিন হাড় কিপটামী করে হলে জমাতে হবে। একসময় আমি আমার টার্গেট পূরণ করে ফেলতাম। একসময় সেটি কিনে বাবাকে দেখাতাম বাবা আমাকে জড়িয়ে ধরতেন। বাবার কাছ থেকে প্রথম জানলাম একে বলে আত্মনির্ভরশীলতা। যা খুবই সম্মানের। 

যারা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ তাদের পক্ষে যে কোন স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন কিছু ছিল না আবার সহজ কিছু নয়। যেমন ধরো, ডিএসএল আর ক্যামেরা বিলাসবহুল পণ্য কারোর জন্যে আবার কারো জন্যে নয়। তবে কিন্তু কঠিন কিছু নয়। একটা ডিএসএলআর কিনতে যদি ৩৬,০০০ টাকা লাগে তাহলে সেটি প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা কিংবা প্রতিদিন ১০০ টাকা জমিয়ে দুই বছরে কিনে ফেলা যায় কিংবা ৩,০০০ টাকা কিংবা ২০০ টাকা প্রতিদিন জমিয়ে একবছরে কিনে ফেলা যায়। এভাবে যে কোন জিনিষ কিনে ফেলা সম্ভব। একবছর দেখতে দেখতে চলে যায় যখন নিজের মতন করে নিজের জমানো টাকাতে কোন কিছু কিনবেন তখন বুঝতে পারবেন আপনি বিরাট কিছু অর্জন করে ফেলেছেন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s