মেঘরা চারিদিকে আলো ছড়ায় আর ঐশীরা অন্ধকারে ঢেকে যায়

প্রচলিত কৌতুক আছে, বাঘে ছুলে ষোল ঘা, পুলিশে ছুলে আঠারো ঘা। যার অর্থ দাঁড়ায় বাঘের থেকে পুলিশ অনেক বেশী ক্ষমতার অধিকারী । আইনের চোখে দ্রুত গতিতে কার্যকর পেশা হচ্ছে পুলিশের । পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ অপরাধ করলে পুলিশ তখন আইনের ধার ধরে না, আদালতের নির্দেশের অপেক্ষাতে থাকে না। এরা দ্রুত ট্রাইবুনালের আদালতের থেকে দ্রুত গতিতে কাজ করে।

নিহত সাগর ও রুনি পেশাগতভাবে সাংবাদিক ছিলেন । তাদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে এখনও বের করা সম্ভব হয় নি, কারা হত্যাকারী। কিংবা সম্ভাব্য হত্যাকারীর টিকিটুকু ধরা যায় নি। তারা যে হত্যা হয়েছে সেটা নিয়েও মেঘ ও মেঘের মামাকে বারবার আদলতের কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে। মেঘের র্দুভাগ্য একটাই মেঘের বাবা মা পুলিশে চাকরী করতেন না । যদি করতেন তাহলে অপরাধীদের ধরতে একদিনের বেশী সময় লাগত না। মেঘকে দাঁড়াতে হত না প্রেস ক্লাবে নিজের বাবা মার হত্যার বিচারের দাবীতে।

গত বুধবার চামেলীবাগে নিমর্ম হত্যার শিকার হয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান। বুধবার বিকালে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং রাতে তাদের হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার চলে গেলেও কাক পক্ষী টের পায় নি। মাহফুজুর রহমানের ভাই ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করেন এবং শুক্রবার পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ ও মিডিয়া ঢালাও ভাবে সংবাদ প্রচার করে এবং তৎপর কার্যক্রম দেখায়। যার ফলে অসম্ভব দ্রুততায় শুক্রবারের ভিতর প্রায় সকল আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জানা গেল, নিজের মেয়ে ঐশী তাদেরকে হত্যা করে, কারন তাকে স্বাধীনভাবে চলা ফেরা করতে না দেওয়া হয় নি। আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছে না, নিজের বাবামাকে হত্যা করার মত মানসিকতা গড়ে তোলার সুযোগ পেল কি করে। পুলিশ ও মিডিয়া ঢালাওভাবে ঐশীকে উপস্থাপন করছে খারাপ মেয়ে, বাজে মেয়ে, বখে যাওয়া মেয়ে এই বিশেষণ যোগ করে। যেহেতু ঐশী মেয়ে এবং পুলিশ হত্যাকারী তাই তাকে প্রতিটি নিউজপেপারের কভার স্টোরী বানানো হচ্ছে। এখন প্রশ্ন কেন এরকম হবে, কেন হত্যা হবে, কেন একটা মেয়ে নষ্ট হয়ে যাবে? এখানে দায় কার বাবা মার নাকি সমাজ ব্যবস্থার। আজকের হতভম্ব ঐশী জানে না, বুঝবে না সামনের ভবিষ্যতের রাস্তাগুলো গভীর অন্ধকারে ঢেকে গেছে। সে খুনীকে সহায়তা করেছে তাই সে খুনী তার বিচার হতেই হবে।

অতৎপর ভবিষ্যতে আর কেউ যে এভাবে হত্যা হবে না এই গ্যারান্টি কি সমাজ, পুলিশ, আদালত, মিডিয়া কেউ কি আমাদের দিতে পারবে? যদি না দিতে পারে তাহলে দায় কার? আদালত, পুলিশ, মিডিয়া কেউ কি বখে যাওয়া এইসব ছেলে মেয়েদের কথা আদৌ কিছু ভাবছে? এদের বাবা ও মার দায় বদ্ধতা সমাজের কাছে কতটুকু? এই রকম অনেক প্রশ্ন আসবে কিন্তু উত্তর আসবে না।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s