শিক্ষিত সভ্য জাতি একটি দেশের মেরুদন্ড

আজকালকার যুগে প্রতিটি গুরুজনদের কাছে একটা ব্রত হচ্ছে, নিজের সন্তানদেরকে শিক্ষাদীক্ষায় মানুষ করা। সত্যিকার অর্থে মানুষ বলে গণ্য করা হবে তখনই যখন সেই সন্তান শিক্ষাদীক্ষা শেষ করে চাকরী বাকরি করে পরিবারের উপাজর্নক্ষম ব্যাক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে । তাই গুরুজনদের দৃষ্টিভঙ্গিতে নিজ সন্তানের নিজের পায়ে দাঁড়ানোকে মানুষ হয়েছে বলে মনে করা হয়।

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমরা বেড়ে উঠেছিলাম একটা যৌথ পরিবারের ছায়াতলে থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছিল, আলোকিত মানুষ হতে। প্রথমে আমাদের পারিবারিক মহলে বড় চাচা, মা, ফুপুর কাছে শিক্ষাগ্রহন পর্ব শুরু হয়েছিল তারপর ছোটবেলাতেই কোরআন শিক্ষা ধর্মকে জানার তাগিদে। জুনিয়র স্কুল পর্ব চলার সাথে কোরআনের অক্ষরগুলোও চির চেনা হয়ে উঠে। দাদা মারা যাবার সময় তাঁর প্রিয় নোকতাবিহীন কোরআন শরীফ মা’র কাছে হেফাজত করে যান। সেখানে বাংলা অর্থ সম্বলিত কোরআন শরীফ। আমি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখেছিলাম দাদুর মতন নোকতাবিহীন কোরআন সূর করে পড়ব। এক সময় আয়ত্বে চলে আসে আমার এই আয়ত্বে আনার পেছনে বড় অবদান ছিল আমার ছোট বেলাকার আমপাড়ার হাতেখড়ি তরুন হুজুর হাবিবুর রহমান সাহেবের। উনি আমাকে পরিপূর্ণ ইসলামের আলোতে বড় করেছিলেন। উনি আমাকে কোনদিন কার্টুন দেখতে বারণ করেন নি। উনি কোনদিন বলেন নি, ছবি কিংবা সিনেমা দেখা হারাম। উনি আমাকে একটা কথা আমার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোর কাছে মাথা নত করবে না কিংবা অন্য কাউকে তোমার প্রভু মানবে না।

অতঃপর আমাদেরকে শেখানো হয়েছিল বড়দেরকে সম্মান করতে এবং ছোটদেরকে সম্মান করতে। ধর্ম, গোত্র, পদ, স্থান যাই হোক না কেন, এই নিয়ম বাধ্যতামূলক ছিল। তাই আমাদের বাড়ী এসে করিম চাচা কলা দিতে এসে চা খেয়ে যেতেন। পাড়ার দোকানদার খুরশীদ ভাই মা’র ফরমায়েশ মোতাবেক জিনিষ দিয়ে যেতেন। মা উনাকে নাস্তার ব্যবস্থা করে দিতেন। আমাদের বাড়ীর কেয়ারটেকার ইদরীস চাচাকে আমরা ঈদের দিন পা ধরে সালাম করতাম। ইদরীস চাচা আমাদেরকে ভাতিজার মতন আদর করতেন। আমরা তাই রিকসাওয়লাকে ভাই যাবেন বলে ডাকি, আপনি বলে সম্বোধন করি। বাড়ীতে আজও বুয়াকে খালা বলে ডাকি। এগুলো আমাদের পারিবারিক মৌলিক শিক্ষা। ব্যবহারে বংশের পরিচয় এই আমাদের দ্বিতীয় শিক্ষা।

আমরা যখন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা অর্জন করি, ভালো চাকরি বাকরি করি। আমরা কিন্তু তখনো পরিপূর্ণ সভ্য মানুষ হয়ে উঠবো না যতক্ষন না আমরা আচরন, ব্যবহার, কথা বার্তাতে সুশৃঙ্খল হতে পারব। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষকে অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন করে তোলে কিন্তু আলোকিত মানুষ হতে হলে শিক্ষার পাশাপাশি হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন করে তোলাটা বেশী জরুরী।

শুধু অক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষাই শুধু মৌলিক নয়, ভালো মনের মানুষ হওয়াও অন্যতম মৌলিক শিক্ষা যা আমাদের সমাজকে সব সময় আলোকিত করে রাখবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s