ছোট ছোট সঞ্চয়

রোজ বাবা ২০ টাকা দিচ্ছে রিকসা ভাড়া, টিফিন খাওয়ার জন্যে । এই টাকা দিয়ে আমি রোজ স্কুলে যাওয়া আসা করি। ফেরার পথে বাসে চেপে ১০ টাকা করে খরচ বাঁচাই। রোজ ভাবি ১০ টাকার বেশী এক পাইও খরচ করবো না। যেদিন বেশী খরচ করে ফেলি পরের দিন রিকসা বাদ দিয়ে বাসে চলাফেরা করি। এভাবে মাসে ৩০০ টাকা জমে যায়। প্রতি মাসের শেষে এই ৩০০ টাকা দিয়ে বই কিনি, গানের ক্যাসেট কিনি, মনের মত শখ কিনি। কেউ আমাকে বকতে পারে না কেননা আমি নিজের জমানো টাকা দিয়ে কিনছি। এই জমানো টাকা দিয়ে একবার বাবার জন্মদিনে বাবাকে বলপেন কিনে দিয়েছিলাম, মাকে ফুল দিয়েছিলাম। বাবা গর্ব করে কলমটা বুকে রেখে অফিসে যেতেন।

বাবা ছোটবেলা থেকে এই অল্প করে জমানোর অভ্যাসটা আমার মাথায় ভিতর চাপিয়ে দিয়েছিলেন বলে আজ আমি আমার ছোট ছোট সঞ্চয়কে আস্তে আস্তে বড় করে দুম করে কিনে ফেলি এসএলআর ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, আইপ্যাড। অথচ এই জিনিষগুলো একসময় আমার কাছে স্বপ্ন বলে মনে হত।

Advertisements

শুভ জন্মদিন বাবা

আমি সবে ঘুম থেকে উঠলাম ভড়কে গেলাম। ভয়ে কেঁদে ফেললাম। মাথার উপর একগাদা বাতি টিম টিম করে জ্বলছে নিভছে, সারাটা ঘর আমার লাল নীল বেলুনে ভরা। বাবা আমাকে বরাবর সারপ্রাইজ দিতে এরকম পাগলামোপনা। এ আমার দুই বছরের জন্মদিনের গল্প।

বাবার থেকে আমরা এই ভড়কে দেওয়ার অভ্যাসটা পেয়েছি এবং আমি ও আমার বোন দুইজন মিলে বাবা মার জন্মদিনে এরকম ভড়কানো খেলা খেলি।

আজ বাবার জন্মদিন। আমরা এই ভড়কানো খেলাকে বিদায় দিয়েছি। এই দিনে ঠিক চার বছর আগে আমার দীদার চলে যাওয়ার পর আমরা কেউ বাবাকে শুভ জন্মদিন বলতে স্বস্তিবোধ করতে পারি না। বাবা আজও নিজের জন্মদিনে দিন নিরবে মন খারাপ করে থাকেন। আমি অন্তত এই দিন সারাবেলা বাবার সাথে কাটাই যদি সামান্যটুকু সময় বাবা আমার জন্যে ভালো থাকে এ আশায়।

শুভ জন্মদিন বাবা।

১৪০টা কচি কন্ঠ

১৪০টা কচি কন্ঠ মিলে সুর করে বলছে, ‍”আল্লাহুম্মা সাল্লেওয়ালা সাইয়েদেনা মাওলানা মুহাম্মদ”। ওদের কারোর বাবামা নেই। ওরা সব্বাই মিলে অন্তরের ভিতর থেকে আমাদের প্রিয় দীদার জন্যে দোয়া করছে।

ছোটচাচা, আমি, মা, বড়চাচী, ফুপু বসে আছি আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের এতিমখানাতে। আজ আমাদের প্রিয় দীদার মৃত্যুবার্ষিকী। আমরা প্রতিবছর ছোট ছোট এতিম বাচ্চাগুলোর জন্যে একবেলা ভালো খাবারের ব্যবস্থা করি। তাই এই দিনে প্রতিবছর ছুটে যাই এই এতিমখানাতে। আমি ওদের খাবার শেষে পরিতৃপ্তির হাসি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে আকাশের দিকে তাকাই সেখানে খুঁজে পাই প্রিয় দীদাকে, উনিও আমার ছেলেমানুষীতে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছেন।

মা হাঁটতে শেখায় জীবনের প্রতিকূলতায়

হঁটি হাঁটি পা পা

ছোট্ট শিশু ছেলেটা হাঁটছে ।
পড়ে যাচ্ছে
পড়ে যেতে যেতে
মা এসে জড়িয়ে ধরছে মমতায়।
আবার হাঁটছে
সম্মুখে মা
দু’হাত বাড়িয়ে;
এবং আমার শেষ গন্তব্য ছিল
মায়ের কোল।

মা এখনো আমাকে হাঁটতে শেখায়
ত্রিশটি বছর ধরে।
আমি হাঁটছি
জীবনের অনেকগুলো অনাগত পথ
এবং অবশিষ্টগুলো আমাকে
একাই পেরুতে হবে।
আর মা সম্মুখে দু’হাত বাড়িয়ে
শেষ গন্তব্যে দাঁড়িয়ে

মা এখনো আমাকে হাঁটতে শেখায়
জীবনের প্রতিকূলতায়।

১১.০৫.২০০৮

আজ মা দিবস

ছেলে হিসেবে আমি চারটা পাঁচটা অন্য কয়েকটা ছেলের মতন অতি সাধারন সাদাসিধে, সহজ সরল পথে চলাতে অভ্যস্ত। আমি ঘুমকাতুরে, প্রচন্ড অলস প্রকৃতির। কখনো আমাকে বাজারের ব্যাগ ধরিয়ে বাজার করতে বলা হয় নি। য়ৌথ পরিবারে বড় হওয়াতে বাবা কাকাদের দেখেছি এই ঝক্কি কাঁধে নিতে। আমি সারাজীবন মা গুছিয়ে দেওয়া রাস্তা ধরে হাটঁছি। খামখেয়ালীপনায় ভরা পুত্রকে নিয়ে আমার মা কখনোই বিরক্ত হন নি। মা আমার জন্যে মাষ্টার্স পাস করেও চাকরী করেন নি। মা ছিলেন মেধাবী ছাত্রী ও খেলোয়াড় । আমার জন্মের পর মা সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে আমাকে মানুষ করার পিছনে সময় ব্যয় করেছেন। তাই আজ মার জন্যে অন্তত আমি অমানুষ পশুতে রুপান্তরিত হই নি।

বিয়ের পর আমার শাশুড়ী আরেক মা হিসেবে আমাতে জায়গা করে নিলেন। আমাকে জামাই না ভেবে ছেলে ভেবে আপন করে নিলেন। সেজন্য আমি যতবার শ্বশুর বাড়ী যাই আমার শাশুমা আমার প্রিয় খাবারটি রাঁধছেন। প্রতি ঈদে আমার জন্যে নিজে পছন্দ করে পাঞ্জাবী কিনছেন।

বরাবর সবসময় ছিলাম, এখন রয়ে গেছি মা ঘেষা। হয়ত এজন্য আমার মা ভাগ্য খুবই ভালো। তাই আমি দুই দুইটি ভালো মা পেয়েছি।

আজ মা দিবস তাই আমি আমার প্রিয় দু’মাকে জানাই আমার কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা।

পাপীকে নয় পাপকে ঘৃনা করো

বর্তমান পরিস্থিতি এমন দাড়াঁচ্ছে তাতে আমাদের সেই ছোটবেলাকার চিরন্তন সত্য বানী , “পাপীকে নয় পাপকে ঘৃনা করো”, এখন নিজেই হাস্যরসের পাত্র। যে সময় এই বানীটা দেওয়া হয়েছিল সেই আজকের মতন সমাজের অবক্ষয় শুরু হয়েছিল, সর্বত্র হানাহানি বেড়ে গিয়েছিল ।

মানুষ যখন পশুত্বকে বরন করে তখন সেই পশুত্ব নিজের প্রিয় মানুষকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না কেননা, মনুষত্ববোধ তাদের ভিতর অনুপস্থিত থেকে যায়। তাই সর্বত্র ঘৃণা থেকে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। হিংসায় প্রতিহিংসা বাড়ছে।

আজ এমন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, বলে কয়ে মানুষ মেরে ফেলা হচ্ছে। যে মরছে সে হত্যাকারীর চোখে একজন জামাত নয়তো আওয়ামী লীগ নয়তো বিএনপি। যে মরছে সে কিন্তু সাধারন মানুষ, তার অপেক্ষাতে থাকে তার ঘরের সন্তান খেলনার দাবী নিয়ে , না মিলতে থাকা অংক খাতা নিয়ে ছোট ভাই, বাবা থাকে এক সাথে রাতে খাবে বলে, মা থাকে ভাতের থালা হাতে ধরে, ছোট বোনটা নতুন পুতুলের আব্দার নিয়ে, প্রিয়তমা অপেক্ষায় ফোন হাতে রেখে ।

২০ই মার্চ, ২০১৩

সত্যিকার ইতিহাসের সন্ধানে

জয় বাংলা আমার প্রিয় শ্লোগান। কিন্তু এখন এটি খুব সম্ভবত একটি দলের কপিরাইটেড হয়ে গেছে। তাই আমি জয় বাংলা বলি না। তেমনটি মনে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের প্যাটেন্ট কিনে নেওয়া হয়েছে। আমি রাজনীতির আগামাথা বুঝি না, বোঝার চেষ্টাও করি না। কেননা, এই রাজনীতির ভাবনা আমাকে ভালো কিছু ভাবায় না। শুধু শুধু আমার ভিতর দীর্ঘশ্বাস বাড়ায়।

আজও আমি বুঝি না, আমি কেন নিজেকে মুক্তিযুদ্ধ চেতনার দাবীর জন্যে লীগ করতে বাধ্য হবো। আমাকে কেন বলা হবে লীগ ছাড়া অন্যরা সবাই রাজাকার তাই যদি না করি তাহলে আমাকেও রাজাকার চিহ্নিত করা হবে। বেয়াল্লিশ বছর পরে বলে কয়ে নব্য রাজাকার বানানো হচ্ছে, নব্য মুক্তিযোদ্ধা বানানো হচ্ছে। এখানে ইতিহাস লাঞ্ছিত বারবার। এর দায় ভার কার ? ঠিক আছে মানলাম, একটি দল এককভাবে দেশ স্বাধীন করেছে। তাহলে কেন ১৬ কোটি মানুষ ভিন্ন কথা বলছে ? তাহলে কি সব আমাদের মানুষ মানসিক বিকারগ্রস্থ নাকি শুধু ইতিহাস বিকৃতকারীরা? সারা দেশে যদি হ্যাঁ না ভোটের আয়োজন করা হয় এবং যে কোন সংশোধনের ক্ষেত্রে তাহলে হয়ত আমরা সঠিক উত্তর পেয়ে যাব। আমরা সবাই বিচার বিচার করে চেঁচাচ্ছি। কেন মনের দাবীকে দাবী করতে হচ্ছে? এখন যথারীতি বিচার দাবী না করে ‍উল্টা হানাহানিতে জাড়িয়ে যাচ্ছি।

২১ই মার্চ, ২০১৩